এই লেখায়
ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, প্রতি ছয় মাসে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হয়। কথাটা মনে রাখা সহজ, আর অনেকের জন্য কাজেরও বটে। কিন্তু এটা তো আর পাথরে খোদাই করা আইন নয়! ভিজিটের মাঝখানে কতটা ফাঁক রাখা ঠিক, তা নির্ভর করে আপনার নিজের মুখের ওপর: দাঁত-মাড়ি কেমন আছে, কী খান, ধূমপান বা পান চিবানোর অভ্যাস আছে কি না, আর অন্য কোনো রোগ আছে কি না।
মোহাম্মদপুর, ঢাকার সালামাহ কেয়ারের ডেন্টাল টিম এই লেখায় বুঝিয়ে বলছে, নিজের আর পরিবারের জন্য একটা যুক্তিসঙ্গত সময়সূচি কীভাবে ঠিক করবেন, চেক-আপে আসলে কী কী হয়, আর কোন কোন বিপদ-সংকেত দেখলে এক মুহূর্ত দেরি করা চলবে না।
#“প্রতি ছয় মাসে”র পরামর্শটা এল কোথা থেকে?
নিয়মিত চেক-আপ প্রচলিত পরামর্শ হয়ে ওঠার কারণ, দাঁতের অনেক সমস্যা শুরু হয় চুপিসারে। ছোট একটা গর্ত বা মাড়ির প্রথম দিকের রোগে সাধারণত ব্যথা হয় না। ব্যথা যখন এসে হাজির হয়, ততদিনে সমস্যা প্রায়ই বড় হয়ে গেছে, চিকিৎসা লম্বা আর খরচও বেশি।
ছয় মাস পরপর গেলে ডেন্টিস্ট বছরে দুবার সুযোগ পান গোলমাল আগেভাগে ধরার, ব্রাশে যে শক্ত পাথরের মতো জমাট ময়লা (টার্টার) ওঠে না তা পরিষ্কার করার, আর আপনার মুখের উপযোগী পরামর্শ দেওয়ার।
তবে স্বাস্থ্য-সংস্থাগুলো ক্রমেই সবার জন্য এক সংখ্যার বদলে ব্যক্তিভেদে ব্যবধানের পরামর্শ দিচ্ছে। যেমন ইংল্যান্ডের এনআইসিই (NICE)-র দাঁতের চেক-আপ নির্দেশিকা বলছে, মুখের স্বাস্থ্য ও ঝুঁকি অনুযায়ী ব্যবধান তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে। কথাটা সহজ: কম ঝুঁকির মানুষকে ঘন ঘন আসতে হয় না, আর বেশি ঝুঁকির মানুষের আরও ঘন ঘন আসা উচিত।
#প্রাপ্তবয়স্করা কত দিন পরপর যাবেন?
ভাবার একটা ব্যবহারিক উপায় এখানে দিলাম। সঠিক পরিকল্পনা ডেন্টিস্ট আপনাকে পরীক্ষা করার পরই নিশ্চিত করবেন।
| আপনার অবস্থা | সাধারণ ভিজিটের ব্যবধান |
|---|---|
| সুস্থ দাঁত-মাড়ি, ভালো ব্রাশের অভ্যাস, কোনো ঝুঁকির কারণ নেই | প্রতি ৬ থেকে ১২ মাসে (ডেন্টিস্ট রাজি থাকলে কখনো আরও বেশি) |
| ফিলিং, ক্রাউন বা আগে গর্ত হওয়ার ইতিহাস | প্রতি ৬ মাসে |
| মাড়ির রোগ (মাড়ি থেকে রক্ত, টার্টার জমা) | নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রতি ৩ থেকে ৪ মাসে |
| ডায়াবেটিস, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, বা নিয়মিত যে ওষুধে লালা কমে | প্রতি ৩ থেকে ৬ মাসে |
| ধূমপায়ী এবং পান, জর্দা বা তামাক যাঁরা চিবান | প্রতি ৩ থেকে ৬ মাসে, সঙ্গে মুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং |
| ব্রেস বা অ্যালাইনার | অর্থোডন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রায়ই মাসিক সমন্বয় |
#শিশুরা প্রথমবার ডেন্টিস্টের কাছে যাবে কখন?
ভালো নিয়ম হলো, প্রথম দাঁত ওঠার সময় প্রথম ভিজিট ঠিক করা, আর কোনোভাবেই শিশুর প্রথম জন্মদিনের পরে নয়। এই প্রথম ভিজিট সাধারণত ছোট আর নরম-সরম হয়। এটা মূলত আপনার জন্য: দুধের দাঁত কীভাবে পরিষ্কার করবেন, চিনিযুক্ত পানীয় আর রাতে বোতলে খাওয়ানো দাঁতের ওপর কী প্রভাব ফেলে, আর দাঁত ওঠার সময় কী আশা করা যায়, তা শিখে নেওয়া।
এরপর বেশির ভাগ শিশুর জন্য প্রায় প্রতি ছয় মাসে একটা চেক-আপ ভালোই চলে। যে শিশুরা মিষ্টি, বিস্কুট আর চিনিযুক্ত পানীয় প্রায়ই খায়, তাদের ওপর আরও কাছ থেকে নজর রাখা লাগতে পারে। নতুন গজানো পেছনের দাঁত বাঁচাতে ডেন্টিস্ট ফ্লুরাইড বা ফিশার সিলান্টের পরামর্শও দিতে পারেন।
ছোট দাঁত সুস্থ রাখার আরও কথা জানতে দেখুন আমাদের পারিবারিক ডেন্টাল সেবা: সালামাহ কেয়ার ডেন্টাল কেয়ার।
#নিয়মিত চেক-আপে কী কী হয়?
নিয়মিত ভিজিট সাধারণত দ্রুত আর আরামদায়ক হয়। সাধারণত যা যা থাকে:
- একটু আলাপ। ডেন্টিস্ট জানতে চান ব্যথা, রক্তপাত, শিরশিরানি, ওষুধ আর আপনার রোজকার অভ্যাসের কথা।
- যত্ন করে পরীক্ষা। দাঁত, মাড়ি, জিভ, গাল আর চোয়াল দেখা হয়, সঙ্গে মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ আছে কি না, সেটাও।
- দরকার হলে এক্স-রে। প্রতি ভিজিটে নয়, শুধু তখনই, যখন দাঁতের ফাঁকে বা পুরোনো ফিলিংয়ের নিচে দেখার দরকার হয়।
- স্কেলিং ও পলিশিং। জমে থাকা শক্ত টার্টার আর ওপরের দাগ তুলে ফেলা হয়, যা মাড়ির রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে।
- ব্যক্তিগত পরামর্শ। ব্রাশ করা, ফ্লস করা আর খাওয়াদাওয়া নিয়ে টিপস মেলে, আর কবে আবার আসবেন তার সুপারিশও।
বেশির ভাগ চেক-আপ এক ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয়, আর নিয়মিত ভিজিটে ব্যথা হওয়া বিরল।
#পরের চেক-আপ পর্যন্ত অপেক্ষা না করার লক্ষণ
কিছু উপসর্গে ডায়েরিতে যে তারিখই লেখা থাকুক, দ্রুত নজর দেওয়া দরকার:
- দাঁতের ব্যথা, বিশেষ করে যে ব্যথা রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দেয়
- ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, কিংবা মাড়ি লাল ও ফোলা দেখানো
- গরম, ঠান্ডা বা মিষ্টিতে শিরশিরানি, যা সহজে থামে না
- দাঁত নড়ে যাওয়া, কিংবা দুই পাটি দাঁত কামড় দেওয়ার ধরন বদলে যাওয়া
- মুখ বা মাড়ি ফুলে যাওয়া, কিংবা বারবার ফিরে আসা বিস্বাদ
- মুখের ঘা, কিংবা সাদা বা লাল দাগ, যা প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সারে না
- ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরেও টানা মুখের দুর্গন্ধ
#সহজ কিছু অভ্যাস, যাতে প্রতিটি ভিজিট সহজ হয়
কোনো একটা অ্যাপয়েন্টমেন্টের চেয়ে বাড়িতে আপনি যা করেন, তার গুরুত্ব বেশি। দুই ভিজিটের মাঝখানে কয়েকটা অভ্যাস দাঁতকে বাঁচিয়ে রাখে:
- ফ্লুরাইড টুথপেস্ট দিয়ে দিনে দুবার, প্রতিবার দুই মিনিট ব্রাশ করুন, আর রাতে শোবার ঠিক আগে ব্রাশটা অবশ্যই করুন।
- দিনে একবার ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ দিয়ে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করুন।
- চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি আর আঠালো খাবার খাবারের সময়ের মধ্যে রাখুন; সারাদিন চুমুক দিয়ে বা ঠোকরে খাবেন না।
- খাওয়ার পর পানি পান করুন, বিশেষ করে চিনি-চা খাওয়ার পর।
- তামাক আর পান এড়িয়ে চলুন। ছাড়তে চাইলে ডেন্টিস্ট বা ডাক্তারকে বলুন, তাঁরা সাহায্য করবেন।
- প্রতি তিন মাসে টুথব্রাশ বদলান, ব্রিসল ছড়িয়ে গেলে আরও আগে।
আপনার রুটিনে মিসওয়াক থাকলে তা পরিষ্কারে সহায়ক একটি সংযোজন, তবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে ফ্লুরাইড টুথপেস্ট আর দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারের পাশাপাশি, বদলে নয়।
#পুরো পরিবারের জন্য ডেন্টাল ভিজিট সহজ করা
সবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট একই দিনে রাখলে মনে রাখা সহজ হয়, আর শিশুদেরও কম ভয় লাগে, কারণ বাবা-মা আগে গেলে তারা অনেক সময় সাহস পায়। ডেন্টিস্টকে বলুন আপনার কার্ডে পরের ভিজিটের তারিখ লিখে দিতে, আর ফোনে একটা রিমাইন্ডার দিয়ে রাখুন।
খরচের চিন্তা থাকলে মনে রাখবেন, বড় গর্ত, রুট ক্যানাল বা অবহেলায় বেড়ে যাওয়া মাড়ির রোগের চিকিৎসার চেয়ে নিয়মিত চেক-আপে সাধারণত অনেক কম খরচ হয়। প্রতিরোধই সবচেয়ে সাশ্রয়ী দন্তচিকিৎসা।
সালামাহ কেয়ারে আমাদের টিম সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলে, আমরা কী দেখছি, কোনটা জরুরি আর কোনটা অপেক্ষা করতে পারে, যাতে নিজের আর পরিবারের জন্য আপনি শান্ত মনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চেক-আপের ব্যবস্থা করতে আমাদের কল করুন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন; আমরা আপনার সুবিধামতো একটা সময় খুঁজে দেব।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
শুধু ব্যথা হলেই ডেন্টিস্টের কাছে গেলে কি চলে?
ব্যথার জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো। শুরুর দিকের গর্ত আর মাড়ির রোগের মতো অনেক সমস্যায় প্রথমে ব্যথা হয়ই না। নিয়মিত চেক-আপে ডেন্টিস্ট সেগুলো চিকিৎসা যখন সহজ ও সাশ্রয়ী, তখনই ধরে ফেলতে পারেন।
শিশুদের কত দিন পরপর ডেন্টাল চেক-আপ লাগে?
প্রথম ভিজিটের পর, যা প্রথম দাঁত ওঠার সময় আর কোনোভাবেই প্রথম জন্মদিনের পরে নয়, বেশির ভাগ শিশুর জন্য প্রায় প্রতি ছয় মাসে একটা চেক-আপ ভালো চলে। যাদের গর্ত আছে বা যারা প্রায়ই চিনিযুক্ত খাবার খায়, তাদের জন্য ডেন্টিস্ট আরও ঘন ঘন ফলো-আপের পরামর্শ দিতে পারেন।
স্কেলিং আর পলিশিং কি সত্যিই লাগে?
টার্টার (জমাট ফিলা) ব্রাশ করে তোলা যায় না। পেশাদার পরিষ্কার সেটা তুলে ফেলে এবং মাড়ির রোগ ঠেকাতে সাহায্য করে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁত হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ। কত দিন পরপর এটা দরকার, তা নির্ভর করে আপনার মুখে টার্টার কত দ্রুত জমে তার ওপর।
ডেন্টাল এক্স-রে কি নিরাপদ?
আধুনিক ডেন্টাল এক্স-রেতে অতি অল্প মাত্রার বিকিরণ ব্যবহার হয়, আর তা তোলা হয় কেবল তখনই, যখন রোগনির্ণয়ে ডেন্টিস্টকে সাহায্য করবে। আপনার স্বাস্থ্য-ইতিহাস ডেন্টিস্টকে জানান, যাতে আগে প্রয়োজনটা যাচাই করে নেওয়া যায়।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
চিকিৎসাবিষয়ক দাবিত্যাগ। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য; এটি যোগ্য ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো উপসর্গ, ব্যথা বা স্বাস্থ্য-দুশ্চিন্তা থাকলে অনুগ্রহ করে চিকিৎসকের কাছে যান। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ কল করুন।
ঢাকায় দাঁতের চিকিৎসা দরকার?
মোহাম্মদপুরে সালামাহ কেয়ার টিমের সঙ্গে কথা বলুন। আমরা মন দিয়ে শুনব, আপনার সামনে থাকা বিকল্পগুলো স্পষ্ট করে বোঝাব, আর সঠিক সেবার পথ দেখিয়ে দেব।




